গজলডোবার সব গেট খোলায় তিস্তায় আকস্মিক বন্যা

নয়াবার্তা রিপোর্ট : ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তা নদীর ভাটি অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে চরাঞ্চলের বাসিন্দারা গবাদি পশু ও পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

রংপুর বিভাগের পাঁচটি জেলায় অন্তত ৮ হাজার পরিবার বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও রংপুরের চরাঞ্চলগুলোতে পানি প্রবেশ করায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রোববার বিকেলের দিকে ভারত গজলডোবার ৪০টি গেট খুলে দিলে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।

নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বাদামক্ষেত, ধানের বীজতলা ও মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি বাড়া-কমার ফলে পচন ধরে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের শ্রম ও বিনিয়োগ। অনেক এলাকায় আমন আবাদের জন্য প্রস্তুত করা বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুনরায় চারা তৈরির সংকটে পড়েছেন কৃষকরা।

পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উত্তরের এই জেলাগুলোতে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচটি জেলার অন্তত ২৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভাঙন আতঙ্কে নদী পাড়ের বাসিন্দারা অন্যত্র আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও ভাটি এলাকায় প্রবল চাপে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন পানিবন্দি পরিবারের তালিকা তৈরি করছে এবং দ্রুত শুকনো খাবার বিতরণের আশ্বাস দিয়েছে।

Share