নারীদের পেটের মেদ কমানোর উপায়

পেটের মেদ নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। তবে সঠিক কসরতে এই মেদ কমানো সম্ভব।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে নারীদের পেশি হ্রাস পায় এবং মেদ জমতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ো ক্লিনিকের তথ্যানুসারে, ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কম হওয়ার কারণে পেটে মেদ জমে।

নারীদের সাধারণত কোমড়ের অংশে বাড়তি মেদ হয়। অধিকাংশ সময় কম নড়াচড়া করা এর কারণ।

ইটদিস নটদ্যাট ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক’য়ের ইন্টার্নাল মেডিসিনের চিকিৎসক ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘রো’র ‘মেডিকেল কনটেন্ট’য়ের পরিচালক মাইক বোল, নারীদের পেটের মেদ কমানোর কার্যকর কয়েকটি উপায় সম্পর্কে জানান।

নিয়মিত কার্ডিও করা : যুক্তরাজ্যের ‘ডিউক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার’য়ের করা গবেষণা অনুযায়ী, অ্যারোবিক অনুশীলন পেটের মেদ কমাতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। দেহের নানান অসুস্থতার জন্য দায়ী পেটের মেদ।

কার্ডিও অনুশীলনের নানান উপায় রয়েছে। তাছাড়া বন্ধুরা মিলে একসাথে ব্যায়াম করলে সময়ও ভালো কাটে। সপ্তাহে কমপক্ষে পাঁচদিন ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন ড. বোল।

নিয়মিত ‘স্ট্রেইন্থ ট্রেইনিং’ করা : শরীরচর্চার মাধ্যমে ওজন কমাতে নিয়মিত ‘স্ট্রেন্থ ট্রেইনিং’ করা গুরুত্বপূর্ণ।

ডা. বোল বলেন, “জিমে বা ঘরে থাকা অবস্থায় ‘স্ট্রেইন্থ ট্রেইনিং’ করা ক্যালরি পোড়াতে সহায়তা করে। সুঠাম দেহের জন্য এটা খুব ভালো কাজ করে।”

উচ্চ প্রোটিন যুক্ত খাবার খাওয়া : অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ ছাড়াই পেট ভরা রাখতে খাবার তালিকায় চর্বিহীন প্রোটিন রাখা উপকারী।

ডা. বোলের ভাষায়, “লিন প্রোটিন যেমন- মুরগি, মাছ, ভেষজ প্রোটিন পুষ্টির ভালো উৎস। স্ট্রেইন্থ ট্রেইনিংয়ের পাশাপাশি এগুলো খাওয়া ওজন কমিয়ে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।”

স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেইট ও চর্বি গ্রহণ : ওজন কমানোর প্রধান শর্ত হল কম ক্যালরি গ্রহণ। ক্যালরি গ্রহণের তুলনায় পোড়ানোর মাত্রা বেশি হলে ওজন দ্রুত কমবে।

ডা. বোল বলেন, “ওজন কমাতে কোনটা বেশি কার্যকর কম ক্যালরি না কম চর্বি গ্রহণ- এটা নিয়ে অনেক গবেষণা রয়েছে। খাবার তালিকা করার সময় ক্যালরি বা চর্বির পরিমাণ নিয়ে না ভেবে বরং এদের স্বাস্থ্যকর উপকরণের দিকে মনযোগ দিতে হবে। স্বাস্থ্যকর কার্বহাইড্রে্ইটের মধ্যে রয়েছে পূর্ণ শস্য। স্বাস্থ্যকর চর্বি হল- মনোআনস্যাচুরেইটেড ও পলিআনস্যাচুরেইটেড চর্বি।”

শাকসবজি, ফল ও পূর্ণ শস্য ইত্যাদি খাবার তালিকায় যোগ করলে মিলবে আঁশ, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ। স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎসের মধ্যে রয়েছে- মাছ, বাদাম, বীজ, ভেজিটেবল অয়েল ইত্যাদি।

সপ্তাহে এক দিন ‘চিট ডে’ করা : ওজন কমাতে গেলে সপ্তাহে একদিন ‘চিট ডে’ বা পছন্দের খাবার খাওয়া যেতেই পারে। তবে অবশ্যই এরপরে বাড়তি ওজন কমানোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ডা. বোলের মতে, “সর্বোত্তম ডায়েট হল ধারাবাহিকতা আর এর জন্য স্থিতিস্থপকতা থাকা। মাঝে মধ্যে নিয়মে ব্যাঘাত ঘটতে পারে এটা নিয়ে খুব বেশি চাপ গ্রহণ করা যাবে না। নিয়ম ভাঙার ভয় বরং লক্ষ্য অর্জনকে ব্যাহত করে, আগ্রহ হারিয়ে যায়। ফলে ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। তাই ওজন কমাতে চাইলে মাঝে মধ্যে অনিয়ম ঘটলেও পুনরায় তা চালিয়ে যাওয়াই ভালো।”

বিশেষজ্ঞের সঙ্গে ওজন কমানোর লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করা : ওজন কমানো নির্ভর করে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার রুটিনের ওপর।

ডা. বোল বলেন, “তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান ওজন কমানোর পাশাপাশি ব্যক্তির মানসিক অবস্থার দিকেও মনযোগ দেয়। যদি সকল প্রচেষ্টার পরও আশানুরুপ ফলাফল না পাওয়া যায়, তবে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।”

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ওষুধের মাধ্যমে ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করতে পারে।

Share