ইজ্জত বাঁচাতে ৯৯৯–এ কল, ১৫ মিনিটে আক্রান্ত নারী উদ্ধার

নয়াবার্তা প্রতিবেদক : ইজ্জত বাঁচাতে ৯৯৯–এ কল করার ১৫ মিনিটের মধ্যে আক্রান্ত নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গভীর রাতে রিকশায় করে বাসায় ফেরার পথে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছয় দুর্বৃত্তের কবলে পড়েন ২৮ বছর বয়সী এক নারী। রিকশাওয়ালাকে তাড়িয়ে ওই নারীকে সড়কের পাশে নিয়ে চড়াও হয়েছিলেন তাঁরা। তখন রিকশাওয়ালা কিছুদূর এগিয়ে আরেক রিকশাওয়ালাকে ঘটনা খুলে বলেন। আবদুল হান্নান নামের ওই রিকশাওয়ালা তখন ৯৯৯–এ ফোন করলে পুলিশ এসে আক্রান্ত নারীকে উদ্ধার এবং তিন ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে। গত রোববার রাতে দল বেঁধে ধর্ষণের এই ঘটনার পর আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

৯৯৯–এ ফোন করার কথা কীভাবে মনে এল, জানতে চাইলে রিকশাচালক আবদুল হান্নান (৩০) আজ মঙ্গলবার বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা না থাকলেও কোনো রকমে বাংলা পড়তে পারেন তিনি। বিভিন্ন গাড়ির পেছনের লেখাগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে পড়েন। এভাবেই তিনি জানতে পারেন, ৯৯৯–এ ফোন করলে পুলিশের সাহায্য পাওয়া যায়। বিষয়টি তাঁর বিশ্বাসযোগ্য হয় চার বছর আগে এক পথচারী ৯৯৯ কল দেওয়ার পর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক ব্যক্তির মরদেহ পুলিশ এসে নিয়ে যেতে দেখে।

এই ঘটনায় পুলিশের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে এই রিকশাচালক বলেন, ‘ওই নারীর জায়গায় আমার বোন, মা, স্ত্রী কিংবা কোনো আত্মীয় হতে পারতেন। ইজ্জত বাঁচানোর জন্য ফোন দিয়েছি।’

ঘটনার বিবরণে আবদুল হান্নান বলেন, রাস্তায় লোকজন ছিল না। দু-একটি গাড়ি মাঝেমধ্যে চলাচল করছিল। ওরা ছয়জন থাকায় ওই নারীকে উদ্ধার করতে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও কাছে যাননি। কারণ, যুবকেরা অনেক ভয়ংকর। বেশির ভাগই মাদকাসক্ত ছিল। দূর থেকে তিনি তাঁদের ওপর নজর রাখেন। ৯৯৯–এ ফোন করার ১৫ মিনিট পর খুলশী থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলের পাশে এসে তাঁকে ফোন করে।

তিনি তখন নগরের খুলশী থানার জিইসি বাটা গলি এলাকায় আখতারুজ্জামান চৌধুরী উড়ালসড়কের নিচে টংদোকানের ঠিকানা দেন পুলিশকে। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফারুক হোসেন, আবদুর রহমান ও মো. আরিফ নামের তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে। বাকি তিনজন পালিয়ে যান। পরদিন সোমবার রাতে সাইফুল ইসলাম, আবদুল খালেক ও মোহাম্মদ হোসেন নামের আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ওই নারী যে রিকশায় ছিলেন, সেটির চালক মো. রাকিব জানান, তাঁদের পথ আটকে ওই নারীকে ধরে নিয়ে তাঁকে চলে যেতে বলেন যুবকেরা। বিষয়টি তিনি একটু দূরে গিয়ে রিকশাচালক হান্নানকে জানান। তিনি বলেন, ‘ঘটনা শোনার পরপরই হান্নান মুঠোফোন থেকে পুলিশকে ফোন করেন। তার কিছুক্ষণ পরে পুলিশ আসে। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন থেকে কোনো যাত্রী বিপদে পড়লে আমিও ৯৯৯–এ ফোন করব।’

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, সময়মতো রিকশাচালক ৯৯৯–এ ফোন না করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে আসামিদের ধরতে পারত না। একজন রিকশাচালকের সচেতনতায় ওই নারীকে উদ্ধার করতে পেরেছে পুলিশ। তাঁকে পুলিশের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে।

ওসি সন্তোষ কুমার বলেন, কেউ ঘটনার শিকার হলে ভুক্তভোগী কিংবা আশপাশের লোকজন রিকশাচালক আবদুল হান্নানের মতো ৯৯৯–এ ফোন করতে পারেন। তাতে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারী এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে খুলশী থানায় ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।